1. bijogk@gmail.com : voice of mohalchhari : voice of mohalchhari
  2. info@www.voiceofmohalchhari.com : ভয়েস অফ মহালছড়ি :
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০৪:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মহালছড়িতে কল্পনা চাকমার অপহরণকারী লে.ফেরদৌস গংদের সাজার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে। ১৯০০ সালের রেগুলেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে ইউপিডিএফের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। মহালছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ। মহালছড়িতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে ২০২৪-এ পদপ্রার্থী যারা। বান্দরবানে নিরীহ বম ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ জনগণকে গণগ্রেফতার বন্ধের দাবিতে ইউপিডিএফের বিক্ষোভ মিছিল। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি বাজার বয়কট কমিটির আহ্বান। মাইসছড়ি বাজার বয়কট এক মাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পথিকৃৎঃ ক্লেরা জেটকিন দীর্ঘ আড়াই মাসের ও অধিক সময় মাইসছড়ি বাজার বন্ধ। খাগড়াছড়ি সদর ইউনিয়নে ধুল্যেতে সেনাবাহিনীর বাড়ি-ঘর তল্লাশি : জনমনে আতঙ্ক।

শহীদ বিপুল-সুনীল-লিটন-রুহিনের সম্মানে আয়োজিত স্মরণ সভায় ইউপিডিএফের সাধারণ সম্পাদকের লিখিত বক্তব্য ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ইং।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১৮০ বার পড়া হয়েছে

চিত্র: স্মরণ সভা
শহীদ বিপুল চাকমা, শহীদ সুনীল ত্রিপুরা, শহীদ লিটন চাকমা ও শহীদ রুহিন বিকাশ ত্রিপুরার সম্মানে আয়োজিত আজকের স্মরণ সভার
সংগ্রামী সভাপতি,
উপস্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ;ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আগত বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ;পানছড়ির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ;শহীদ চার নেতার পরিবারের সদস্যবৃন্দ;সমবেত এলাকাবাসী;সুধীবৃন্দ –

আমি আপনাদের সবাইকে আমাদের পার্টি ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও বিপ্লবী অভিবাদন জানাচ্ছি।

(১)
আপনারা জানেন, গত ১১ ডিসেম্বর রাতে একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর লেলিয়ে দেয়া ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীরা পানছড়ির অনিলপাড়ায় বিপুল, সুনীল, লিটন ও রুহিনকে ঠাণ্ডা মাথায় নৃশংসভাবে খুন করে। এই বর্বর ও পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ পার্বত্য চট্টগ্রাম তো বটে, পুরো দেশকে স্তম্ভিত করেছে। এর বিরুদ্ধে এখনো নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানাচ্ছে। ভারতের একটি সংগঠন হামলার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চার সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার জন্য জাতিসংঘ ও আমেরিকার কাছে আবেদন জানিয়েছে। যার সামান্যতম মনুষ্যত্বের মূল্যবোধ আছে সে কখনই এই বর্বরতম নরহত্যাকে সমর্থন করতে পারে না।

কিন্তু কেন এই হত্যা? কেন বাছাই করে বিপুল, সুনীল, লিটন ও রুহিনকে খুন করা হলো? কী তাদের অপরাধ? জাতি হিসেবে বেঁচে থাকতে হলে আজ আমাদের এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।

(২)
বিপুল, সুনীল, লিটন ও রুহিন কেবল ব্যক্তি নয়। তারা একটি নির্দিষ্ট ধারার রাজনীতির চর্চা করতেন। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। একটি নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করতেন। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের নিপীড়িত জাতি ও জনগণের মুক্তির জন্য লড়াই করেছিলেন। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়িয়েছিলেন। এজন্য তাদেরকে মূল্য দিতে হয়েছে, নিপীড়ন-নিগ্রহ ও জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে।

বিপুল চাকমাকে ২০১৬ সালে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। সেদিন তিনি তার ক্যান্সার আক্রান্ত মাকে জরুরী চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। গ্রেফতারের সময় তার মৃত্যু-পথযাত্রী মায়ের সামনে তাকে যেভাবে লাঞ্ছনা , রূঢ় ও অমানবিক আচরণ করা হয় তা সভ্য সমাজের জন্য সত্যি কলংকজনক। তিনি জেলে থাকার সময় তার মা মারা যান, হাতকড়া পরা অবস্থায় মাকে শেষ বারের জন্য দেখতে যাওয়ার দৃশ্য ভুলবার নয়।

সুনীল ত্রিপুরাকেও জেলে যেতে হয়েছিল। তাকে ২০১৮ সালে ঢাকার অনতিদূরে সাভার থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে কোন গ্রেফতারী পরোয়ানা ছিল না। দুই বছরের অধিক সময় বিনা অপরাধে তাকে জেল খাটতে হয়।

কিন্তু এসব মিথ্যা মামলা, জেল-জুলুম তাদেরকে দমাতে পারেনি। এতে বরং তাদের সংগ্রামী বিপ্লবী চেতনা আরও বেশি শাণিত হয়, আদর্শের প্রতি অনুরক্তি আরও বেড়ে যায় এবং পার্টি ও আন্দোলনের প্রতি অঙ্গীকার আরও বেশি সুদৃঢ় হয়। তাই তারা জেল থেকে ছাড়া পাওয়া মাত্রই আবার সংগঠনের কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেন।

অন্যদিকে লিটন ও রুহিন ছিলেন পার্টির আদর্শে ও সংগ্রামে অবিচল। একনিষ্ঠতা ও বিশ্বস্ততার সাথে তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতেন। লিটন ২০০৯ সালে প্রথম পিসিপির সাথে জড়িয়ে পড়েন। পরে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামে যোগ দেন। রুহিন ২০১০ সালে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের পানছড়ি ইউনিটের সাথে যুক্ত হন এবং ২০১৪ সালের দিকে পার্টির সদস্যপদ গ্রহণ করেন। তিনি পানছড়ি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন জায়গায় সাংগঠনিক কাযক্রমের সাথে জড়িত ছিলেন।

(৩)
বিপুল, সুনীল, লিটন ও রুহিন এখন অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা, হার না মানা প্রতিবাদী তারুণ্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এখন সুস্পষ্ট দু’টি ধারা বিদ্যমান। একটি হচ্ছে সুবিধাবাদী, আপোষকামী, পরাজয়বাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল ধারা। এরা অধিকারহারা নিপীড়িত জনগণের পক্ষে লড়াই না করে শাসকগোষ্ঠীর সাথে নির্লজ্জভাবে আপোষ করেছে, সরকারের লেজুড়বৃত্তি ও পদলেহন করছে এবং আন্দোলনের পিঠে ছুরিকাঘাত করছে। সে কারণে আপামর জনগণের কাছে তারা নিন্দিত ও ধিকৃত।

অন্য ধারাটি হচ্ছে সংগ্রামী প্রতিবাদী ও বিপ্লবী ধারা। এরা জনগণের ওপর চলা অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে নিরলসভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তারা এই সংগ্রামে অবিচল রয়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সরকার ও শাসকগোষ্ঠী প্রথমোক্ত ধারাটিকে অর্থাৎ সুবিধাবাদী, আপোষকামী, পরাজয়বাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল ধারাটিকে সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আপোষহীন সংগ্রামী ধারাটির ওপর চালাচ্ছে নিষ্ঠুর দমনপীড়ন। বিপুল, সুনীল, লিটন, রুহিন সংগ্রামী বিপ্লবী ধারাটিরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আজ যখন অনেক ছাত্র তরুণ অতি সামান্য সুবিধা ও অর্থের প্রলোভনে নিজের বিবেককে কলঙ্কিত করে সুবিধাবাদী ধারায় গা ভাসিয়ে দিচ্ছে, বিপুল-সুনীলরা তা করেননি। তারা সেটাকে মনুষ্যত্ব ও তারুণ্যের জন্য চরম অবমাননাকর, ধিক্কারজনক ও হীন কাজ বলে মনে করতেন। তারা নিপীড়িত জাতি ও জনগণের জন্য কাজ করা এবং জীবন উৎসর্গ করাকে অত্যন্ত সুমহান কাজ বলে মনে করতেন। এমনকি একজন বন্ধু বা কমরেডের জন্য তারা কী ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিলেন তা তাদের শহীদ হওয়ার ঘটনা থেকেও বোঝা যায়। নরাধম ঠ্যাঙাড়েরা বিপুলকে হত্যা করার পর সুনীল ত্রিপুরাকে জীবন্ত ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। এজন্য তারা তার হাত পিছমোড়া করে বেঁধে দেয়। কিন্তু সুনীল দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, “বিপুলকে তোমরা খুন করেছ, আমার আর বেঁচে থাকার কোন অর্থ নেই। আমি তোমাদের সাথে যাবো না, গুলি করে মেরে ফেললেও আমি যাবো না।” কাপুরুষ, মানুষ নামের কলংক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: 𝐈𝐍𝐓𝐄𝐋 𝐖𝐄𝐁